বাণিজ্যসর্বশেষ

আমেরিকা ও ব্রিটেনে রপ্তানি বেড়েছে

গত অর্থবছরে এ বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে এ বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ আমেরিকা ও ব্রিটেনে রপ্তানি বেড়েছে।

ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানিতে গতি বেড়েছে

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সেই দেশে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যের বাজারেও বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে।

বড় বাজারে রপ্তানির গতি বেড়ে যাওয়ায় সার্বিকভাবে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক জুলাই-সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ১৬২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আমেরিকা তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমেরিকা বাংলাদেশের ৫৫১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি।

এই বাজারে গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আমেরিকা বাজারে সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্সে। গত অর্থবছর বাংলাদেশি পোশাকের দ্বিতীয় শীর্ষ গন্তব্য জার্মানিতে ৬৬৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। ওই সময় রপ্তানি কমেছিল ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১৪৫ কোটি ডলারের পোশাক। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

এ ছাড়া গত অর্থবছরে ফ্রান্সে ৩৫৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সেই দেশে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৬৩ কোটি ডলারের পোশাক। অন্যদিকে স্পেনে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি একই রকম আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১০৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৮৫১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। ওই সময়ে প্রবৃদ্ধি কমেছিল ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজারটিতে রপ্তানি হয়েছে ২০৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশি পোশাকের তৃতীয় শীর্ষ গন্তব্য যুক্তরাজ্যে গত অর্থবছরে ৫০৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয় আমেরিকা। তখন প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে

(জুলাই-সেপ্টেম্বরে) রপ্তানি বেড়েছে ২১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১৪৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

প্রচলিত বাজারের মধ্যে কানাডায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি। যদিও গত ২০২২-২৩ অর্থবছর এই বাজারে রপ্তানি হয়েছিল ১৫৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। ওই সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বড় বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি খুবই ইতিবাচক। দুই মাস ধরে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ক্রয়াদেশ কিছুটা বেড়েছে। মূলত যেসব ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যের মজুত কমছে, তারাই ক্রয়াদেশ দিচ্ছে।

আমেরিকা চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন বাজারে ভালো করছে। যদিও গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে নতুন বাজারে ৮৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। তখন প্রবৃদ্ধি ছিল ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রবৃদ্ধি কমে ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২২৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৭৯ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন বাজারের মধ্যে আমেরিকা জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। তবে ভারতে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশেও তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বড় বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি খুবই ইতিবাচক। আমেরিকা দুই মাস ধরে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ক্রয়াদেশ কিছুটা বেড়েছে। মূলত যেসব ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যের মজুত কমছে, তারাই ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। তারপরও গত বছরের তুলনায় এখনো ক্রয়াদেশ কম। যদিও প্রতিযোগী দেশগুলোতে পোশাকের ক্রয়াদেশ আমাদের চেয়েও কম।’

ফারুক হাসান আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে পোশাকের চাহিদা চলতি বছর কম থাকবে। তারপরও আমাদের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় থাকবে বলে আশা করছি আমরা।’

আরও পড়ুন

গার্মেন্টস কর্মীদের সর্বনিম্ন ২০৩৯৩ টাকা বেতন দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button