বাণিজ্যসর্বশেষ

ইলিশ এর বাজারে আগুন যা ১০ বছরের ইতিহাসে প্রথম

বর্ষাকালে বাংলার মানুষের খাওয়ার এই চিত্র পাওয়া যায় রসরাজ অমৃতলাল বসুর কবিতায়। তার মতে, পদ্মাপাড়ের ইলিশ যে একবার খেয়েছে সে কখনো ভুলবে না।

তবে সত্য হলো দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাদ ভুলে গেছে। কারণ এ বছর দাম নিম্নবিত্ত, এমনকি নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। এ কারণে ইলিশের স্বাদ ভুলে গেলে তাতে আশ্চর্যের কী আছে!

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে এবার দাম সবচেয়ে বেশি। সংস্থাটি শুধু ঢাকার বাজারদরের দিকে নজর দিলেও এবার দাম সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

তবে মৎস্য অধিদপ্তর তাদের তথ্যে উল্লেখ করেছে, প্রতিবছর ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারও ইলিশের কোনো কমতি হয়নি। সাগর থেকে ইলিশ ধরা নৌকা, জ্বালানি তেল, মজুরি—সবকিছুই বেড়েছে। তাই দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদী-সাগর সব জায়গায় কম পাওয়া যায়। এবার ইলিশ মৌসুমে বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে অস্বাভাবিকভাবে কম বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন গবেষকরা। তবে এবার উচ্চমূল্য নিয়ে দ্বিমত নেই, কারণ যাই হোক না কেন।

গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ইলিশের উৎপাদন, বাজার, মৌসুম,ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি-এসব কাজ বন্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২রা নভেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ২২ দিন পর্যন্ত।

এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম
দেশে পণ্যের দামের ওপর নজর রাখে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। আমি যখন তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করি তখন কিছুই পাওয়া যায়নি ‘পণ্য অনুযায়ী বাজার মূল্য’। যাইহোক, মূল্য চার্ট রিপোর্ট পাওয়া যায়. সে অনুযায়ী চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ইলিশের গড় দাম ছিল ১ হাজার ১৫০ টাকা। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। আর গত বছর গড় দাম ছিল ১ হাজার ৫০ টাকা।

ইলিশ

ক্যাবের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ থেকে ২ কেজি ওজনের দাম ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। ঢাকার বাজারে ইলিশের দাম এক দশক বা ১০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

ক্যাবের হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে (সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের গড় দাম ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। আর ১ থেকে ২ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের দাম গতবারের তুলনায় কেজিতে ৪০০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে এক থেকে দুই কেজি ওজনের দাম এবার বেড়েছে প্রায় তিনশ টাকা।

দাম বেশি হওয়ার কারণ কী?
ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী, গবেষক এমনকি মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ইলিশের দাম বেশি। বিভিন্ন বন্দরের জেলেরা বলছেন, এবার ইলিশ ধরা পড়েছে খুবই কম। অর্থনীতির এই সরল সূত্র ক্ষেত্রেও ঘটেছে বলে মনে করছেন দালাল ও ব্যবসায়ীরা। তবে মাছের মজুদ কম বলে মানতে নারাজ গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা।

সরকারের তথ্যমতে, গত বছর দেশে ইলিশের উৎপাদন হয়েছিল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন। এবারও উৎপাদন কাছাকাছি হতে পারে বলে মনে করেন ইলিশ-গবেষক আনিচুর রহমান।  প্রতিবছর এ সময় উৎপাদন কম হয় বলে শোনা যাচ্ছে। এবারও বলা হচ্ছে বাড়াবাড়ি। এখন দেখা গেছে, কেউ কেউ একবারে ৩৯ লাখ টাকার পেয়েছেন। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

ক্যাব

জুলাই মাসে দেশের সবচেয়ে বৃষ্টিপাতের মাস। চলতি মাসে ৬০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। গত আগস্টেও খুব বেশি বৃষ্টি হয়নি। আনিছুর রহমান মনে করেন, এই দুই মাসে বৃষ্টি কম হওয়ায়  উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।গবেষকের মতে,।” তাই কক্সবাজার এলাকায় বেশি পাওয়া গেলে স্বাভাবিকভাবেই পটুয়াখালীতে কম পাওয়া যাবে। এই স্বাভাবিক. বছরের শেষ নাগাদ দেখা যাবে গত বছরের মতোই আছে নাকি আরও বেশি হতে পারে।

ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যবসায়ীরা বলছেন অন্য কথা। মহিপুর বন্দর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেদার উদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ কম। প্রকৃতির দান, জানি না কমেছে কি না। শুধু এতটুকুই জানি যে এবার জেলেরা খুব কম  দেখা পেয়েছেন।

বৃদ্ধি নিয়ে ক্যাবের বিশ্লেষন, এবার সিন্ডিকেট করে দাম বেশ চড়া করেছে ব্যবসায়ীরা। ক্যাবের সহ-সভাপতি এসএম নাজির হোসেন বলেন, মৌসুম শুরুর আগেই মধ্যস্বত্বভোগীরা ঘুষ দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এবার দাম এত বাড়লেও প্রকৃত জেলেরা লাভবান হওয়ার নজির নেই। এই মধ্যস্বত্বভোগীরা দাম বাড়াতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে মনিটরীর অভাবে ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button