সর্বশেষখেলা

বাংলাদেশকে ৩৮২ রানের বন্যায় ভাসাল দক্ষিণ আফ্রিকা

আরও একবার প্রোটিয়াদের ব্যাটিং দাপটের দুর্দান্ত প্রদর্শনী। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকটি ম্যাচ। আবারও দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করল প্রোটিয়া দল। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের জন্য।

বাংলাদেশকে

আজ আমরা এমন শক্তিশালী ব্যাটিং সহ একটি দলের বিপক্ষে টস হেরেছিলাম এবং পরে বোলিং করতে হয়েছিল। সেই সাথে প্রোটিয়া দল প্রথমে ব্যাট করে লিডের সদ্ব্যবহার করে ৫ উইকেটে ৩৮২ রানে পৌঁছে যায়।দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কুইন্টন ডি কক সেঞ্চুরি করেন (১৭৪)। এইডেন মার্করাম (৬০) এবং হেনরিক ক্লাসেন (৯০) হাফ সেঞ্চুরি করেন। বাংলাদেশকে পক্ষে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ।

এবারের বিশ্বকাপে খেলা চার ম্যাচের তিনটিতেই তিন শতাধিক রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনশো কম। বাংলাদেশকে একটিতে  ৩৮২রান এবং অন্যটিতে ৪২৮রান যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এমন দলের বিপক্ষে বোলিংয়ে ভালো শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরিফুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজের সৌজন্যে বাংলাদেশকে এটি পেয়েছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন ওপেনার রিজা হেন্ডরিক্স। কিন্তু ক্যাচ ধরতে পারেননি তানজিদ হাসান। তখন হেনড্রিক্সের রান ছিল ০।
ভন ডের ডুসেনের দ্রুত প্রত্যাবর্তন সত্ত্বেও প্রোটিয়াদের রান থামানো যায়নি

ভন ডের ডুসেনের দ্রুত প্রত্যাবর্তন সত্ত্বেও প্রোটিয়াদের রান থামানো যায়নি ছবি:

বাংলাদেশকে

তবে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি শরিফুল। সপ্তম ওভারে হেনড্রিক্সের ব্যাট-প্যাডের মাঝে জায়গা পান শরিফুল। একটি দুর্দান্ত ইনসুইং ফুল লেংথ বল হেন্ডরিক্সের স্টাম্প ভেঙে দেয়। আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে ১২ রান আসে তার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশকে পরের ওভারে অফ স্পিনে তিন রানে মিরাজের বলে বোল্ড হন রাসি ফন ডের ডুসেন (১)। পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট (২ উইকেটে ৪৪ রান) হারিয়ে দ্রুত রান তুলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

কিন্তু কুইন্টন ডি কক, যিনি আউট হবে বলে আশা করা হয়েছিল, তিনি বেঁচে যান। বাঁহাতি প্রোটিয়া ওপেনারকে আউট করতে অফ-স্পিনার মিরাজের কাছে টানা ৭ ওভার বল করেন সাকিব। মিরাজের বেশির ভাগ ওভার নন-স্ট্রাইক এন্ডে কাটিয়ে দেন ডি কক। এইডেন মার্করাম, যিনি একটি সিঙ্গেলের সাথে চারে আছেন, একটি কৌশলী স্ট্রাইক রয়েছে। বাংলাদেশকে তাকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যে সে যদি মিরাজের বাধা অতিক্রম করতে পারে তবে মুম্বাইয়ের উইকেটে সেঞ্চুরি প্রায় নিশ্চিত। ঘটেছে ১০১ বলে ৪৭ রানের হাফ সেঞ্চুরি করে ডি কক তিন অঙ্কে পৌঁছে যান।
প্রোটিয়া অধিনায়ক মার্করাম করেন ৬০ রান

প্রোটিয়া অধিনায়ক ৬০ রান করেন ছবি:

বাংলাদেশকে

মার্করাম মধ্য ওভারে ডি কককে সমর্থন করেন ৬৯ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে। বাংলাদেশকে সেঞ্চুরিও করতে পারতেন, ৩১তম ওভারে অতিরিক্ত কভারে সাকিবের বল তুলে লং অফে ক্যাচ নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।

ডি কক অবশ্য সেঞ্চুরিতে থেমে থাকেননি। ৪৫ ওভার ব্যাট করেছেন। রান ১৫০ ছাড়িয়ে ১৭৪ রানে নিয়ে যান তিনি। হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ১৪০ বলে ১৫ চার ও ৭ ছক্কার সাহায্যে ১২৪ রানের ইনিংস খেলেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। এই বিশ্বকাপে এটি ডি ককের তৃতীয় সেঞ্চুরি।

ইনিংসের শেষ ওভারগুলোর সুবিধা নিতে ক্রিজে থাকেন আদর্শ ব্যাটসম্যান। গত ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৭ বলে ১০৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলা হেনরিখ ক্লাসেন ৩৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে আজ আরেকটি সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের লক্ষ্য নাগালের বাইরে রেখেছিলেন ডি কক ও ক্লাসেন
ডি কক এবং ক্লাসেন বাংলাদেশকে লক্ষ্য নাগালের বাইরে রেখেছিলেন ছবি:

বাংলাদেশকে

যদিও ইনিংসের শেষ ওভারে হাসান যখন ছক্কা মারছিলেন, তখন পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন ক্লাসেন। তার ৯০রান এসেছে ৪৯ বলে ২ চার ও ৮ ছক্কার সাহায্যে, তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৩। ডেভিড মিলারও করেন এক রান। ১৬ বলে তার ৩৪রানের অপরাজিত ইনিংসটি দক্ষিণ আফ্রিকার মোট স্কোর ৩৮২ তে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

ইংল্যান্ডকে হারিয়েও বাংলাদেশকে ভয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button