রাজনীতিসর্বশেষ

বিএনপির ১৮৮ জন নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার

বিএনপির দাবি, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার তার বিরুদ্ধে সব মামলায় জামিনে রয়েছেন

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

নেতা-কর্মী
বিএনপি

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুকুল আলম জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় তাঁতীদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদসহ দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাতে কাকরাইল এলাকার মেরিনা আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে বিএনপির ৫১ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। মতিঝিল বিভাগের জেলা প্রশাসক ডি.বি. রাজীব আল মাসুদ বলেন, রাজধানীর কয়েকটি হোটেলে অবস্থান করে কয়েকজন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মেরিনা আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। কেউ আহত হয়নি। এ সময় সেখান থেকে বিএনপির স্থানীয় ৫১ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেফতার ৫১ নেতা-কর্মীসহ অজ্ঞাত ২০০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিবি পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত ৫১ জনকে আজ আদালতে পেশ করা হবে।
গতকাল রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র মো. ফারুক হুসেইন প্রথম আলোকে বলেন, আগের ঘটনাগুলোতে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। এখন সেসব মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিএনপির গতকালের সমাবেশে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

পুলিশ ও ঢাকা আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির সমাবেশে জড়িত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ৪৫টি পুরনো মামলায় ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব পুরনো মামলার বেশির ভাগই গত বছরের নভেম্বর, ডিসেম্বরে এবং চলতি বছরের মে ও জুলাই মাসে নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বাড্ডা থানার একটি মামলায় বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ ১২ নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
গতকাল ঢাকার সিএমএম আদালতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের বেলা ১২টার পর জেল ভ্যানে করে কোর্ট সেলে নিয়ে আসে পুলিশ। তাকে একনজর দেখতে আদালতের সামনে ভিড় জমান স্বজনরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের আদালতের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বেলা ৩টার পর শুনানি শেষে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আবার জেল ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিএনপি নেতাদের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় প্রায় প্রতিদিনই আদালতের সামনে ভিড় জমাতেন বিএনপি নেতা-কর্মীদের স্বজনরা।

“আমি আরও চার বছর বাঁচব”
গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বাড্ডা থানায় নতুন নাশকতার মামলায় তাকেসহ ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় ভোলা জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ ১১ জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তাদের প্রত্যেককে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে নেওয়া হয়েছে।

এরপর রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, রুহুল কুদ্দুস ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে আদালত কক্ষে নিয়ে যেতে হবে। এরপর রুহুল কুদ্দুসকে আদালত থেকে আদালত কক্ষে আনা হয়। এ সময় তিনি তার শারীরিক অবস্থা আদালতে তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘প্রতি মাসে আমাকে কেমোথেরাপি নিতে হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে তার কেমোথেরাপি করা হয়। তবে আমেরিকা থেকে ওষুধ না আসায় ৩ অক্টোবর কেমোথেরাপি দিতে পারিনি। এখন ওষুধ এসেছে।নেতা-কর্মী

রুহুল কুদ্দুস আদালতকে আরও বলেন, ‘আমার ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন আমি চার বছর বাঁচব। মাঝখানে একটা বছর কেটে গেল।

রুহুল কুদ্দুসের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘রুহুল কুদ্দুস নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আদালতে তার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন। আমরা তার জামিনের আবেদন করেছিলাম।

এ ছাড়া বাকি ১১ জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত।

সাভার, ধামরাই ও নারায়ণগঞ্জে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ঢাকায় বিএনপির গতকালের সমাবেশে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার সাভার ও ধামরাইয়ে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট এসএইচও জানান, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া গতকাল নারায়ণগঞ্জে তল্লাশি চৌকিতে ঢাকাগামী যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
‘বাবাকে দেখার জন্য শিশুরা সারাদিন অপেক্ষা করে’নেতা-কর্মী

গত জুলাইয়ে কদমাতলী থানায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ মঙ্গলবার রাতে মাতুয়াইলের বশির আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে গতকাল সিএমএম আদালতে হাজির করে থানায় মামলা করার আবেদন করা হয়। অন্যদিকে তার জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়

আরও পড়ুন
বিএনপি এক দফা দাবি নিয়ে শুরু হয় সমাবেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button