আঞ্চলিকসর্বশেষ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে উচ্ছেদ অভিযান, জনতার বিক্ষোভ।

আয়নাল হক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গড়িমসি করায় নাজির ফরিদুল ইসলাম ও কমিশনার আক্তারুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করেছে স্থানীয় জনতা।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার বিকেল চারটার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর বাইটকামারী নামক এলাকায়।

পুলিশ, স্থানীয় ও আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার বাইটকামারী গ্রামের ছোরমান আলীর সাথে পাশ্ববর্তী গ্রামের আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতা আবু হানিফের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় পক্ষের দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি ও প্রমাণাদি শুনানী অন্তে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট তারিখে রৌমারী সহকারী জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আমিনুল ইসলাম বাদী পক্ষে রায় ঘোষনা করেন এবং বিরোধপর্ণ জমির উপর স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য নির্দেশ দেন।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) সকালে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক ঘটনাস্থলে রৌমারী সহকারি জজ কোটের নাজির ফরিদুল ইসলাম, কমিশনার আক্তারুজ্জামান ও জারিকারক রুহুল আমিন এবং কোর্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করতে আসেন। এতে বাঁধ সাজেন বিবাদী পক্ষের লোকজন।

এদিকে বাদী পক্ষের অভিযোগ তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে আমাদের কথা না শুনে উল্টো বিবাদী পক্ষের লোকজনের সাথে আঁতাত করে বিজ্ঞ আদালতের বিচারকের কথা মতো কাজ না করে গড়িমসি করতে থাকেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে স্থানীরা তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এ প্রসঙ্গে বিবাদী আবু হানিফ বলেন, যারা উচ্ছেদ করতে আসছিলেন, তারা দেখেছেন বিরোধপর্ণ জমিটির উপর স্থাপনা না থাকায় তারা চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবো।

মামলার বাদীপক্ষ ছোরমান আলী বলেন, আদালত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আদেশ হাতে নিয়ে আসেন নাজির ও কমিশনার। কিন্তু বিবাদীপক্ষের আবু হানিফ এর সাথে নাজির ও কমিশনার এর যোগসাজসে তারা জমি জরিপের কথা বলে টালবাহনা করতে থাকে এবং সারাদিন শেষে সন্ধ্যার আগে চলে যান। রৌমারী সহকারি জজ আদালতের নাজির ফরিদুল ইসলাম এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে তাদের সাথে কথা না বলে দ্রুত চলে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button